বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের অবিলম্বে অবসায়ন, আমানত ফেরতের পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে বঞ্চিত আমানতকারী ঐক্য পরিষদ।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শতাধিক আমানতকারী এসব দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৮ জুনের চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থার বিষয়ে গুরুতর মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে আটটি সংশোধনমূলক শর্ত পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়।
শর্তগুলোর মধ্যে ছিল পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সরদের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা মূলধন সংস্থান, ৫৭০ কোটি টাকার তারল্য নিশ্চিত করা, সম্পদ বিক্রি করে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের আমানত পরিশোধ এবং খেলাপি ঋণ আদায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেকোনো একটি শর্তও পূরণে ব্যর্থ হলে প্রশাসক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় রেজুলেশন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
পরিষদের অভিযোগ, ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকের নথিতে আমানতকারীরা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের সম্পূর্ণ মূলধন ফেরতের দাবি জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করা হয় বলেও জানান আমানতকারীরা।
তাদের দাবি, নির্ধারিত সময় পার হলেও শর্তগুলো পূরণ করা হয়নি এবং আমানতকারীদের পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি। বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে আটকে থাকা অর্থের মধ্যে রয়েছে প্রবীণদের আজীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ এবং প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়। দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আটকে থাকায় অনেক পরিবার চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সংকটে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে একই দাবিতে মানববন্ধন করেন আমানতকারীরা।
