
বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সফলতা এবং এই খাতের ভবিষ্যতে কী কী হবে সেগুলো সারাদেশ ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে শুরু হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক দেশের এবং এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তির আসর ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০২০’। বুধবার(৯’ই ডিসেম্বর)বেলা পৌনে একটায় ভিডিও বার্তায় দেশীয় প্রযুক্তির প্রথম বৈশ্বিক ভার্চুয়াল এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাল্টি-পারপাস হলে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ, আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব নিয়াজ মোহাম্মাদ জিয়াউল আলম এবং বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিন দিনের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেব। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনে সংযুক্ত করণের মতো উদ্যোগ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ভিত্তি রচনা করেছেন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
জনসেবা প্রাপ্তিতে সরকার আরো ১০ হাজার ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করবে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে স্থান করে নেবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়নের কারণে করোনা সাময়িক বাধাগ্রস্ত করলেও আমাদের থামিয়ে দিতে পারেনি। জীবনকে আরো সহজ করেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির আয়োজন সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, বিদেশি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে দেশি সফটওয়্যার ও সংযোজিত পণ্য-সেবা ব্যবহারে ক্রয় নীতিমালায় বাধ্যবাধকতা এবং হাইটকে পার্কে তৈরি প্রযুক্তি পণ্য সেবার প্রসার বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
ভাষা আন্দোলন থেকে ডিজিটাল রূপান্তরেও বাংলাদেশ বিশ্বে আজ রোল মডেল বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব জিয়াউল আলম। অপরদিকে এই ধারবাহিকতা ধরে রাখতে তরুণ সমাজকে গবেষণায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লাহ। সভাপতির বক্তব্যে পলক বলেন, ‘অতিমারিতে স্বনির্ভরেরাই টিকে আছে’ মন্তব্য করে ‘আত্মকেন্দ্রিকতা’ মুক্ত অন্তর্ভুক্তি ‘স্বনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্পকে উপস্থাপন করতেই আমাদের এই আয়োজন।
ডিজিটাল সংযুক্তির মাধ্যমে দেশের সব কাজ পরিচালনার সক্ষমতার সুফল তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি আর তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আসিয়ান-এশিয়ান দেশের মধ্যে অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সূচক ৫ এর ওপরে ছিলো। বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে নেয়ায় ১০০ কোটির ই-জিপি সফটওয়্যার ২০ কোটি টাকায় তৈরি করে দেশের টাকা সাশ্রয় করা গেছে।
সরকার ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির সুফল তুলে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ১০ লাখ ই-নথি সম্পাদন করেছি। এই অনুষ্ঠানে আসার মুহূর্তে গাড়িতে বসেও আমি একটি ফাইলের কাজ সেরেছি। এভাবেই দেশে এখন লালফিতার দৌরাত্ম্য ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নেই।

তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














