দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বেড়েছে বিভিন্ন নদ নদীর পানি। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অনেক এলাকা। এখনো অনেক নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্ভোগ বেড়েছে পানিবন্দী লাখ লাখ মানুষের। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বিভিন্ন স্থানে। দুর্গত এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। আছে গবাদি পশুর খাবার সংকট।

কুড়িগ্রামে অবিরাম বৃষ্টির কারণে ধরলা নদীর পানি ২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ব্রহ্মপূত্র নদের পানি অপরিবর্তিত থাকলেও বিপদসীমার উপরে। বন্যার পানি প্রবেশ করে চিলমারী উপজেলা শহরসহ নতুন করে আরে ৫০গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এনিয়ে জেলার ৩ লক্ষ পানিবন্দী মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। জেলার ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৬টি ইউনিয়নের ৪৭৫টি গ্রাম পানির নীচে তলিয়ে আছে।

গাইবান্ধায় তিস্তা, ঘাঘট, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি সামান্য কমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের। এইসব এলাকায় খাদ্যাভাব, পানির সংকট ও পয়:নিস্কাশন সমস্যা প্রকট। অন্যদিকে ত্রান বিতরণ নিয়েও আছে নানা অভিযোগ।

সিরাজগঞ্জে জেলার সার্বিক বন্যার পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে পানি বাহিত রোগ। রয়েছে খাবারের অভাব।

সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ঘর বাড়ি থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও গ্রামীণ সড়কগুলো এখনো ডুবে আছে পানিতে। জেলার ৮৭টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভায় ১ লাখ ৮ হাজার ১২৯ পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

সিলেটের দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি বাড়িঘর থেকে নামার আগেই আবার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি। নিম্নাঞ্চলের বহু এলাকা এখনো পানিতে ডুবে আছে।

শরীয়তপুর সদরসহ নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ডুবে জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অনেকে তাদের গবাদিপশু নিয়ে উঁচু রাস্তা ও ব্রিজে আশ্রয় নিয়েছে।

ফরিদপুর জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। এছাড়া সরদপুর, চরভদ্রসন ও ফরিদপুর সদর উপজেলার শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে