বিদেশিদের পর এবার নিজ দেশের নাগরিকদের ওমরাহ পালন ও মসজিদে নববী পরিদর্শন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। কভিড-১৯ প্রতিরোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
আল আরাবিয়া ও আরব নিউজের বরাতে জানা যায়, প্রাণঘাতী এই ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার ঐতিহাসিক মসজিদুল হারাম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মক্কার পবিত্র এই মসজিদে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। খবর ডেইলি সানডে এক্সপ্রেস’র।
দেশটির ইসলামিক গবেষক ডা. ইয়াসির কাধি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় বলেছেন, ‘সুবহান আল্লাহ, পবিত্র কাবা এখন জনমানবশূন্য। তাওয়াফ বন্ধ রয়েছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কর্তৃপক্ষ হারাম শরিফ পরিষ্কার করছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন।

মুসলিমদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা মক্কার পবিত্র গ্রান্ড মসজিদ। এই মসজিদের প্রাণকেন্দ্রে কাবা শরিফের অবস্থান। বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সৌদি আরব এর আগে বিদেশি এবং নিজ দেশের নাগরিকদের পবিত্র ওমরাহ পালন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এর আগে সোমবার প্রথমবারের মতো সৌদিতে একজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে বুধবার আরও এক সৌদি নাগরিককে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গেল বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশে উহানে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯৫ হাজার ৪৮১ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৩ হাজার ৬৮৮ জন। শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৪৩০ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১২ জনের। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৬৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৩৫ জন। অপরদিকে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইতালিতে। সেখানে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৯ এবং মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের।
নির্দেশনায় বলা হয়, ওমরার কার্যক্রম অভ্যন্তরীণভাবেও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হল। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মক্কা মোকাররমা ও মদিনার সব প্রবেশ পথে কড়া পাহারা বসানো হবে। তবে মসজিদ এলাকার বাসিন্দারা এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়বেন কিনা তা বলা হয়নি এই নির্দেশনায়। গত সোমবার দেশটিতে কভিড-১৯ এ আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। ওই ব্যক্তি ইরান থেকে বাহরাইন হয়ে সৌদি আরবে আসেন। তিনি সৌদি নাগরিক। ভাইরাস ঠেকাতে গত সপ্তাহে সৌদি আরব বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। এর অংশ হিসেবে ওমরাহ ও টুরিস্ট ভিসা স্থগিত করে দেশটি।
সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরবে কভিড-১৯ এর প্রবেশ এবং ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক এবং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যথাযথ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














