কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া জেলায় আমন ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা না বলে অভিযোগ তুলেছেন কৃষকরা, তারা অভিযোগ তুলে বলেন, সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের গাফিলিতিসহ নানা অনিয়ম ও সিন্ডিকেট তৈরীর মাধ্যমে ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

চলতি আমন মৌসুমে ধান উৎপাদনের অন্যতম জেলা হল কুষ্টিয়া। আর এই জেলার কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বি ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ কৃষকের। জেলার কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ৮৮ হাজার সাড়ে ৬০০ হেক্টর জমিতে হেক্টরপ্রতি ৫.২ টন হিসেবে আমন চাষে উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ, ৪৪ হাজার টন। সরকারিভাবে জেলার ছয়টি উপজেলায় ন্যায্য মূল্যে (১০৪০ টাকা দরে) ধান কেনা হচ্ছে মাত্র ১১ হাজার টন। ধান ক্রয়-বিক্রয়ে সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, কৃষকের কাছে বিক্রয়যোগ্য ধান রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টন।

সরকারিভাবে ক্রয় কেন্দ্রেও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বরাদ্দে সম্প্রসারণসহ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হলেই কেবল কৃষকের কাংখিত ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে জানালেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, ধানক্রেতা মিলার ও জেলা প্রশাসন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ মিন্টু হুসাইন অভিযোগ করে বলেন, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকসহ ধান উৎপাদনে আনুষঙ্গিক খরচ জোগান দিতে প্রতি বছরই আমাদের ঘাড়ে চাপছে লোকসানের বোঝা। তিনি বলেন, প্রতি এক মণ ধান উৎপাদপ্রে নুন্যতম খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৮০০ টাকা, কিন্তু বাজারে ধান ক্রেতা সিন্ডিকেটের বেঁধে দেওয়া সাড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা মণ ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের কৃষক মহব্বত আলী বলেন, একদিকে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে (১০৪০ টাকা দরে) প্রতি মণ ধান কেনার প্রচারণা চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত কৃষকের সঙ্গে তামাশা করছেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের কাছে সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম জিম্মি হয়ে আছে। তারা কৃষক নয় এমন লোকদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করছে এমন অভিযোগ তুলে বিদ্যমান এ অনিয়মের অবসান দাবি করেন।

বাংলাদেশ মেজর হাস্কিং ও অটো রাইচ মিল মালিক সমিতি, কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সাধু বলেন, ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া কৃষকের এই দুর্দশা দীর্ঘদিনের। ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হলে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নসহ তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই কেবল কৃষক বাঁচবে দেশ বাঁচবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, আমন মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয় কার্যক্রমকে আগামীতে আরও সম্প্রসারিত করার চিন্তা করছে সরকার।

কুষ্টিয়া জেলায় উৎপাদিত ৪ লাখ, ৪৪ হাজার টন ধানের মধ্যে কৃষকের কাছে বিক্রয়যোগ্য ৬০ শতাংশ ধানের নুন্যতম পরিমাণ ক্রয় বরাদ্দ সম্প্রসারিত হলে কৃষকের এ দুর্দশা লাঘব হবে বলে জানান তিনি। কুষ্টিয়ায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলায় ২ লাখ ৯০ হাজার কৃষক ধানসহ অন্যান্য ফসলাদি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষক বাঁচাতে কাজ করছেন। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের বিষয়টি প্রতিবছরই সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগামীতে ধান ক্রয় কার্যক্রমে বরাদ্দ আরও সম্প্রসারিত করাসহ প্রকৃত কৃষকের তালিকাটাও আরও বেশি যাচাই-বাছাই করে করা হবে যাতে সরকারি এ উদ্যোগ সম্পূর্ণটাই কৃষকের উপকারে আসে।

কে এম শাহীন রেজা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে