মাগুরা প্রতিনিধিঃ প্রতিবন্ধি শিশুদের নিয়ে হতাশ অবিভাবকদের আশার আলো দেখাচ্ছেন মাগুরা সদরের কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিষ্ণুপদ। চালু করেছেন তুষ্টলাল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় । অন্য দশটি শিশুর মতই আদর যত্নে বেড়ে উঠছে এই প্রতিষ্ঠানের শিশুরা। অধিকার বি ত প্রতিবন্ধী শিশুরাও সঠিক পরিচর্যায় স্বাভাবিক হতে পারে এমন ভাবনা থেকে কাজ শুরু করেন বিষ্ণুপদ। এলাকাবাসির অনুদানে আর শিক্ষকদের সেচ্ছা শ্রমে চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

অজপাড়াগায়ের হতদরিদ্র পরিবার গুলিতে জন্ম নেয়া হতভাগ্য এ সকল শারিরীক ও মানুষিক প্রতিবন্ধীদের জীবনে আশার আলো জ্বালিয়ে চলেছে এ বিদ্যালয়টি। গ্রামের সুবিধাবি তদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় জীবনভর কাজকরে যাচ্ছে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিষ্ণু পদ রায়। ২০১২ সালে গ্রামের সুবিধাবি ত শারীরিক মানুষিকভাবে অক্ষম প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিজ উদ্দ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। বাবার নামে নাম দিয়েছেন তুষ্ট লাল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। প্রথমে ১০ শতক জমির উপর এই বিদ্যালয়টি নির্মাণ করেন,পরে তিনি আরো ১৫ শতক জায়গা এই বিদ্যালয়ের জন্য দান করেন, বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে এই বিদ্যালয়টি দেখাশোনা করছেন। সেই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে সেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে সহোযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন গ্রামের একঝাক শিক্ষিত যুবক, গৃহবধুসহ অনেকে। আট বছর আগে সামান্য টিনের ছাপড়া আর প াশ জন শীক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও স্থানীয়দের সহোযোগিতায় বর্তমানে ২৩৩ জন শিক্ষার্থী, ১৭ জন শিক্ষক, ৮ জন কর্মচারী রয়েছে পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয়টিতে। সাথে ফ্রি খাবার টিফিনসহ রয়েছে আসা যাবার যানবহনের সু-ব্যাবস্থা। বিভিন্ন বয়সের শারীরিক, মানুষিক বাক, শ্রবন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের অক্ষরজ্ঞানসহ পাঠদান শেখানো হয় বিদ্যালয়টিতে। এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শিখে আজ গ্রামের প্রতিবন্ধী নিতাই মজুমদারসহ আরও অনেকে মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ব্যাবসা পরিচালনা করে প্রমান করেছেন প্রতিবন্ধীরা আর সমাজের বোঝা নয় সুযোগ পেলে তারাও নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম।

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে জীবন উৎসর্গ করা বিষ্ণু পদ রায় জানান, ৪০ বছর শিক্ষকতা জীবন শেষ করে অবসর জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত সমাজের সকল স্তরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। বাকি জীবনও তাই করে যেতে চান তিনি। পাড়াগাঁয়ে নারী শিক্ষার জন্য প্রথম একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বিদ্যালয়টি এম,পিও ভুক্ত হয়ে আজ এ অ লের অন্যতম বিদ্যালয় হিসেবে সুপরিচিত। এর পর গ্রামের অবহেলিত প্রতিবন্ধীদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজ উদ্দ্যোগে ২৫ শতক জমিসহ নিজ অর্থায়নে টিনের ছাপড়া তুলে শুরু করেন এই অটিস্টিক স্কুলটি। নিজের এক সন্তান দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়াই সুযোগের অভাবে লেখাপড়া করতে না পারায় মনে কষ্ট অনুভব করেন তিনি। সেখান থেকেই প্রতিবন্ধী অবহেলিত মানুষের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে হন বধ্য পরিকর। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য শিক্ষা তাদের মৌলিক অধিকার। সমাজের পিছিয়ে থাকা প্রতিবন্ধীরাও এ দেশেরই নাগরিক অথচ তাদের সেই অধিকার রক্ষার তেমন প্রচেষ্টা না থাকাটা দুঃখজনক। বর্তমান সরকার এদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে, যা প্রসংশার দাবিদার। তাদের পাশে দাড়াতে সরকারের সাথে সকলকে এগিয়ে আসার আহব্বান জানান তিনি। শেষ জীবনে তার এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত রুপে দেখে যেতে চান তিনি। এ জন্য সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজয় কুমার বিশ্বাস জানান, তুষ্ট লাল অটিস্টিক স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হবার পর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সুবিধাবি ত প্রতিবন্ধীরা আজ পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। পড়াশুনা শিখে আজ নিজেরা ব্যাবসা পরিচালনা করছেন অনেকে। বিষ্ণু পদ রায়ের এই মহৎ উদ্দ্যোগে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছেন তারা। তবে সরকরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না তারা। সহায়তা পেলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাড়ালেখার সুযোগ সুবিধা আরো বৃদ্ধি করা যেতো ।

মাগুরা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক জাহিদ আলম জানান, জেলায় ১২ টির অধিক প্রতিবন্ধীদের স্কুল রয়েছে। যার সবকটি প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তি উদ্দ্যোগে পরিচালিত হয়ে আসছে। পার্শবর্তী জেলা ফরিদপুর, ঝিনাইদহে প্রতিবন্ধীদের সরকারি এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও মাগুরা জেলায় এখোনও হয়নি। তবে সম্প্রতি সরকার এমপিও ভুক্তির জন্য আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছে। এবার অন্তত একটি প্রতিষ্ঠান হোলেও সরকারি এমপিও ভুক্ত করা হতে পারে বলে আশ ব্যাক্ত করেন তিনি।

শেখ ইলিয়াস মিথুন
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে