ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদ দাতাঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর বিওসি ঘাটে বসা ধানের হাটকে পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মোকাম বলা হয়ে থাকে। প্রতিদিন এই মোকামে প্রায় লক্ষাধিক মণ ধান বেচা-কেনা হয়। মোকামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসব ধান ক্রয় করেন চাতাল মালিকরা।গত এক সপ্তাহ ধরে এই মোকামে ধানের বেচা-কেনা বেড়েছে সে কারনে চালের দাম বাড়ার কথা জনিয়েছেন চাতাল কল মালিকরা। ফলে লোকসান গুণতে হচ্ছেনা মিল মালিকদের।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে,ব্রাহ্মণবাড়িয়া,কিশোরগঞ্জ,
বর্তমানে আশুগঞ্জ মোকামে প্রতি মণ বিআর-২৮ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা ও বিআর-২৯ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে সাড়ে ৭৫০ টাকায়। আর বাজারে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) বিআর-২৮ ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা ও বিআর-২৯ চাল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫৮০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায়।তবে মোকামে যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে এর বেশি দাম দিয়ে ধান ক্রয় করার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু চাতাল কল মালিকদের চাহিদা কম থাকায় বাধ্য হয়েই সামান্য লাভ দিয়ে ধান বিক্রি করছেন তারা।
আশুগঞ্জ বজারের এক ধান ব্যবসায়ী জানান, ২০ বছর ধরে তিনি ধান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন জায়গা থেকে ধান কিনে এনে আশুগঞ্জ মোকামে বিক্রি করেন। মোকামে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে ধানের দাম অনেকটা কমে গেছে। কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার পর মোকাম পর্যন্ত নিয়ে আসতে যে খরচ হয় তার চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ চালের দাম না বাড়ায় ধানের চাহিদা কম।
তাছাড়া একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কৃষকদের কাছ থেকে বিআর-২৮ ধান ৯০০ টাকা মণ এবং বিআর-২৯ ধান ৮০০ টাকা মণ ক্রয় করতে হয়। এর সঙ্গে আরও অনেক খরচ আছে। কিন্তু মোকামে এনে বিআর-২৮ বিক্রি করতে হয়েছে ৯৪০টাকা ও বিআর-২৯ বিক্রি করতে হয়েছে ৮৪০টাকায়। এক হাজার মণ ধান বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা লাভগুনতে পারছে।
আরেক ধান ব্যবসায়ী ও চাতাল কল মালিক জানান, ধানের বাজারের সঙ্গে চালের বাজারের কোনো মিল নেই। মোকাম থেকে ধান কেনার পর পরিবহন এবং প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য একজন চাতাল কল মালিকের যে টাকা খরচ হয়, সে অনুযায়ী চালের দাম পাওয়া যায় না। মাঝখানে চালের দাম কেজিতে দুই-চার টাকা বেড়েছিল। কিন্তু মিডিয়ায় লেখালেখির কারণে আবার দাম কমে গেছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে। কৃষকরা ধান চাষ করবে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা পথে বসে গেলে ধান কিনবে কে?
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা চাতাল কল মালিক সমিতির সভাপতি মো. জোবায়ের হায়দার বুলু জানান,এক সপ্তাহ আগেও ধানের দাম ভালো ছিল। কিন্তু ধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চালের দাম বাড়েনি। এর ফলে ধানের দাম এখন নিম্নমুখী। অনেক চাতাল কলেই আগের চাল রয়েছে। চালের দাম না বাড়ায় বিক্রি করতে গেলে লোকসান গুনতে হবে বলে জানান তিনি।
জহির সিকদার
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














