সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত ভাইরাল হয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের ”নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলন তবুও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ঘটেনি। দেশের মানুষ নিজের সুবিধাকে বড় করে দেখেছে, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছে নাহ, মানছে নাহ সড়ক আইন, আর সুযোগ নিচ্ছে বাস-মালিক-শ্রমিকরা।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, দ্রুত গতি, বেপরোয়া এবং বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র দিয়ে রাস্তা পারাপার, আইন না মানা এই সংস্কৃতি থেকে সকলকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুবা শাস্তির আওতায় আসা অবধারিত। ইলিয়াস কাঞ্চন সড়কে চলাচলে সকলকে সচেতন হতে আহবান জানান। ক্যাম্পেইন চলাকালে ইলিয়াস কাঞ্চন সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের কার্যকর করা এ নতুন আইনে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। নতুন এ আইনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের জেল অথবা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে অষ্টম শ্রেণি পাস করতে হবে। আপনারা সকলে নতুন এই আইন সম্পর্কে জানুন এবং মেনে চলার চেষ্টা করুন।
চলচিত্রের নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ”নিরাপদ সড়ক চাই” নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। বাস-মালিক-শ্রমিকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো, নিয়ম না মানা অভ্যাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের সড়কে নিরাপত্তার জন্য ইলিয়াস কাঞ্চন সশরীরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। সময় এসেছে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর, নিরেট সত্য কথা বলতে হবে। সড়ক মাফিয়ার কাছে মাথানত করা চলবে না। তা হলেই সম্ভব হবে ”নিরাপদ সড়ক চাই” নইলে নয়। চিন্তা করে দেখোন তো, গত ২৫টি বছর এই মানুষটি একা ,স্রেফ একা লড়াই করে যাচ্ছেন “নিরাপদ সড়ক চাই” দাবী নিয়ে।

ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন ১৯৯৩ সালের অক্টোবরের ২২ তারিখ বান্দরবন যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। এরকম তো আরো হাজার মানুষ প্রতি বছর মারা যাচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনায়। কই তাদের কোন স্বজনকে কি দেখেছেন “আমার মত যাতে আর কারো স্বজন সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত না হয়” এই পণ নিয়ে রাস্তায় নামতে? স্ত্রীকে হারানোর সময়ে ইলিয়াস কাঞ্চন ছিলেন বাংলাদেশের তখনকার নাম্বার ওয়ান নায়ক। এর কয়েক বছর আগে মুক্তি পায় বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ব্যবসা সফল ছবি “বেদের মেয়ে জোছনা”।
প্রযোজক- পরিচালকদের লাইন লেগে থাকতো তখন ইলিয়াস কাঞ্চনকে তাদের সিনেমায় নায়ক বানানোর জন্য। কিন্তু এই ইলিয়াস কাঞ্চন নামের মানুষটি আর সিনেমায় নায়ক হতে চান নাই,উনি “নিরাপদ সড়ক চাই” শ্লোগান সাথে নিয়ে সত্যিকার নায়ক হওয়ার জন্য রাস্তায় নেমে গেয়েছিলেন। যার ফলে উনাকে বারবার পরিবহন মাফিয়াদের হুমকি,নোংরামির শিকার হতে হয়েছে।
তারপরেও এই মানুষটি থামেননি। আমরাও চাই ইলিয়াস কাঞ্চন আপনি থামবেন না। চলচ্চিত্র শিল্পের লোকজনের উচিত তাদের আপন মানুষ হিসেবে তার পাশে এখনই দাঁড়ানো। তীব্র প্রতিবাদ করা যারা তার অপমানজনক পোষ্টার করেছে তার বিরুদ্ধে। আমরা যারা নিরাপদ সড়ক চাই তাদেরও উচিত এই মুর্হূতে ঘুরে দাঁড়াতে। না হলে পরিবহন মাফিয়ারা তাদের বিষদাঁত দিয়ে আরো বেগে পরিবহন খাতকে অচল করে দিবে।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














