বাংলাদেশে অন্যতম রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ সাত বছর। পাশাপাশি বন্ধ আছে দেশটিতে অভ্যন্তরীণভাবে মালিক পরিবর্তনের সুযোগ। ভিসা জটিলতা খুলবে, খুলছে করেও খোলেনি। বৈধ পথে এখন শ্রমিক ভিসা নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত আমিরাতে গেছেন দুই হাজার ১৬২ জন বাংলাদেশি। আর দেশটি থেকে এবছর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো হয় ১৮০ কোটি ডলারেরও বেশি।

আমিরাতে ভ্রমণ ভিসার প্রক্রিয়া শিথিল থাকার সুযোগ নিয়েছেন অসংখ্য বাংলাদেশি তরুণ। স্বভাবতই এই ভিসায় কাজের অনুমতি থাকে না। এক মাস বা তিন মাসের নির্ধারিত সময়ের জন্য দেওয়া হয় এই ভিসা। মেয়াদ শেষ হলে আরও দু’বার পাওয়া যায় নবায়নের সুযোগ। কিন্তু সেই সময় শেষে অবস্থান করলে গুণতে হবে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা।

মূলত একটি ভিজিট ভিসার পেছনে খরচ হয় মাত্র ১৫-১৬ হাজার টাকা। এই সুযোগকে পুঁজি করে ফায়দা লুটছে একশ্রেণির দালালচক্র। বাংলাদেশিদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দালালচক্র বিভিন্নভাবে প্রতারণার ফাঁদ খুলে বসেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভ্রমণ ভিসা দিয়ে কাজ ও আকামা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিসহ লোভনীয় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ফাঁদে পা দিয়ে আমিরাতে পাড়ি দিচ্ছে তরুণ-যুবকরা। তাদের কিছু সংখ্যক পরে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে দেশটিতে বিনিয়োগকারীর ভিসা নিয়ে থেকে গেলেও একটি বড় অংশই ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ শেষ হলে অবৈধ হয়ে যাচ্ছে।

দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসীরা বলছেন, ভ্রমণ ভিসায় এসে কাজ পাওয়া কঠিন। এছাড়া অবৈধ বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়লে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে আমিরাতে অবস্থানরত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দেশটির প্রশাসন যে কোনো সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে