বিশ্বব্যাপি বাড়ছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে মানুষসহ সমগ্র প্রাণিজগতের ওপর। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও মানবস্বাস্থ্য। এজন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বিশুদ্ধ পানির বিষয়টি। ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেকে নানাভাবে এসেছে পানি। ৬ নম্বর লক্ষ্যমাত্রায় সরাসরি এসেছে পানি ও স্যানিটেশন। এ নিয়ে সম্প্রতি ২০১৯সালের বেসলাইন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পানিবিষয়ক সংস্থা ইউএন ওয়াটার।
পৃথিবীর ৭৫ ভাগ এবং জীবদেহের ৬০ ভাগই হলো পানি। বর্তমানে পানি একটি দুর্মূল্য সম্পদ। বিশ্বে পানির দুষ্প্রাপ্যতা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মাঝে যুক্ত হয়েছে পানিদূষণ। শিল্প বিপ্লবের কারণে বায়ুর মতো পানিও দূষিত হচ্ছে। দূষিত পানি প্রাণি ও উদ্ভিদ জগৎকে ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। পানি সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না হলে আগামীতে বিশ্বে হাহাকার পড়ে যাবে। তাই বলা হচ্ছে, যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধে, তবে তা হবে বিশুদ্ধ পানিসংকটের জন্য। গবেষকদের মতে, পানির নিম্নমানের কারণে কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এরইমধ্যে কমে গেছে এক-তৃতীয়াংশ। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেন তারা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, খরা, ভূমিধস ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। যা পানির উৎস দূষণের অন্যতম কারণ। এতে লবনাক্ততা বেড়ে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা। কমে যাচ্ছে কৃষি উৎপাদন। লবনাক্ততার কারণে বিশ্বে প্রতিদিন ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নষ্ট হয়। যা বাংলাদেশের মতো একটি দেশের মানুষের এক বছরের খাদ্যের সমপরিমাণ।
বাংলাদেশেও ক্রমেই বাড়ছে সুপেয় পানির সংকট। রাজধানী ঢাকায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানি অনেক এলাকার মানুষ নিয়মিত পায় না। যদিও পানির মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে লবণাক্ততা বাড়ার ফলে নিরাপদ পানির সংকট প্রকটতর হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, লবণাক্ত পানি পান ওই এলাকায় প্রসূতি মৃত্যুর উচ্চ হারের কারণ। আবার ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি থাকার বিরাটও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। পানি দূষণের কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত বৈশ্বিক, জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব। তার মতে, প্রতিদিনই কমছে সুপেয় পানির পরিমাণ। এজন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দায়ী। তাই এ বিষয়ে সবার মাঝে সচেতনতা দরকার।
সংক্ষেপে ওয়াশ নামে ইউএন ওয়াটার, ২০১৯ সালের বেসলাইন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন খাতে বাংলাদেশে বার্ষিক মাথাপিছু ব্যয় হয় ৫৬০ টাকা। এরমধ্যে ৪০০ টাকা আসে সরকারি বরাদ্দ থেকে; বাকি ১৬০ টাকা মানুষ খরচ করে নিজের পকেট থেকে। এই খাতে বাংলাদেশের মোট বার্ষিক বরাদ্দ ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। দক্ষিণ এশিয়ায় নেপাল, শ্রীলঙ্কায় এই খাতে বরাদ্দ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশে ৫ ডলার, নেপালে ১২ ডলার আর শ্রীলঙ্কায় ১৮ ডলার। সুতরাং এ খাতে বাংলাদেশকে অর্থ বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন গবেষকরা।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














