মানুষের আলোকিত জীবনের উপকরণ হচ্ছে বই। জগতে শিক্ষার আলো, নীতি-আদর্শ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, কৃষ্টি-সভ্যতা, সাহিত্য-সংস্কৃতি—সবই জ্ঞানের প্রতীক বইয়ের মধ্যে নিহিত। পৃথিবীতে বিনোদনের কত কিছুই না আবিষ্কৃত হয়েছে, কিন্তু বই পড়ার নির্মল আনন্দের কাছে সেগুলো সমতুল্য হতে পারেনি। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে গড়ে ওঠা এক পাঠাগার “বইঘর”।

জ্ঞান বিতরণের এক ক্ষুদ্র প্রয়াশ। যার যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় বছর খানেক আগে। যার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবীর সাহা।২০১৭ সাল থেকে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল । এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ এর ও অধিক বই আছে বইঘর এর সংগ্রহে। এরই মাঝে “বইঘর”এর কার্যক্রমের সাথে যোগ হয়েছে অনেক নতুন বিষয় । “নিউজ-পেপার কর্নার “ নামের একটা কার্যক্রম শুরু হয়েছে । এইখানে প্রতিদিন ২ টি করে ইংরেজি সংবাদপত্র রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভোকাবুলারি বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে জ্ঞাত করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে ।ক্লাস বিরতির ফাঁকে ভিড় জমে “নিউজ-পেপার কর্নার” এ । নিত্য নতুন ইংলিশ ওয়ার্ড আর ইংলিশ নিউজ পড়তে সবার ভালো লাগে । জানে নতুন কিছু , জানে প্রতিদিনের খবরবর্তমান পৃথিবীটা খুব কম্পেটিটিভ আর টেকনোলজি ভিত্তিক ।
প্রতিদিন প্রতিনিয়ত সবাই জানছে নতুন কিছু , অস্তিত্বের প্রয়োজনে শিখতে হচ্ছে নতুন কিছু সবাই শিখছে নিজের মতন করে, উদ্দেশ্য জীবনে সফলতা পাওয়া ।বইঘর একটি অন্যরকম লাইব্রেরি । এখানে নিজেকে আলোকিত করার জন্যঅনেক উপদান রয়েছে । “বইঘর” এর উদ্যোগে বই পড়া সম্পর্কিত সেমিনার আয়োজন করা হয় ,প্রতি মাসে সদস্যদের পড়া বইয়ের রিভিউ থেকে রিভিউ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ,বিভিন্ন জাতীয় দিবস গুলোতে গল্প লেখা বা রচনা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ,৩ মাস পর পর বই ঘর কর্তৃক ম্যাগাজিন পাবলিশ করা ।বইঘরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সুবীর সাহা বলছিলেন- “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে জানানো, বই পড়ার আগ্রহ সবার মাঝে সৃষ্টি করা এবং একজন প্রকৃত ভালো মনের মানুষ গড়ে তোলা বই ঘরের প্রধান উদ্দেশ্য।”ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফের কঠিন এই অধ্যায়ে “বইঘর”,সি .এস .ই ডিপার্টমেন্টের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে এক আনন্দ-ঘন পরিবেশ তৈরি করেছে ।
প্রতি সপ্তাহেই হয় বই উৎসব। বিবেকের প্রতিফলন , আত্মতৃপ্তি আর সামনের দিন গুলোতে কিভাবে নিজেদের এগিয়ে নিতে হবে , তা শিখছে বিখ্যাত মনীষীদের আর সফল মানুষের গল্প পড়ে ।দেশের প্রতি ভালোবাসা , দায়িত্ব এবং কর্তব্য শিখছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে। হয়তো এইভাবে একদিন সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যাবে । গড়ে তুলবে নিজেদের আলোকিত মানুষ রুপে ।বদলে যাবে জীবনের চিত্রকল্প ।
আকরাম নয়ন
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।














