কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনায় দেশের কৃষকরা যেন সঠিকভাবে নিয়মিত সার ক্রয় করতে পারেন সে লক্ষে দেশের প্রতিটা জেলায় ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে সার প্রদান করে যাচ্ছেন। কিন্তু বিসিআইসির কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যকে প্রতিনিয়ত বাঁধাগ্রস্থ করে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে কুষ্টিয়ার সদর আসনের এমপি মাহাবুব ইউল আলম হানিফের নির্দেশনা ও সুপারিশক্রমে কুষ্টিয়া মোহিনী মিলে গত ১৭ই মার্চ ২০১৭ তারিখে বিবিআইসির বাফার গোডাউন চালু হয়। যার পেক্ষিতে বিসিআইসির সার ডিলাররা অতি সহজেই কৃষকের মাঝে সার পৌঁছে দিয়ে আসছিল।

কিন্তু গত বছর হঠাৎ করে কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল বাফার ইনচার্জ এ কে এম তাহের যোগদান করেন। যোগদান করার পর থেকে সার ডিলারদের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ড ও চাঁদবাজী শুরু করেন তাতে সাধারন ডিলার অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন তার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবর দুপুর ১১টার সময় মোহিনী মিল বাফার গোডাউনে গিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উক্ত অফিস ঘিরে রেখেছে কুষ্টিয়ার ৮২ জন সার ডিলারের মধ্যে প্রায় ৫০ জন সার ডিলার। তাদের সাথে বাক বিতন্ডা কথা চলছিল উক্ত অফিসের ইনচার্জ এ কে এম তাহেরের সাথে।
সার ডিলারদের বক্তব্যে মতে সুস্পস্ট প্রমান পাওয়া যায়, বর্তমান কুষ্টিয়ার বাফার ইনচার্জ এ কে এম তাহের একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি। তার সন্মুখেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন কিন্তু তিনি কোন সদোত্তর না দিয়ে বারং বার বলে যাচ্ছেন যে এ ব্যাপারে আপনাদের সভাপতি ও সেক্রেটারীর সাথে কথা বলেন। তা না হলে আমার জিএম মনজুর রেজার সাথে কথা বলেন। ডিলার মালিকরা বলেন, সার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে প্রায় এ বছর বছর ধরে। বর্তমান ইনচার্জ এখানে যোগদান করার পর থেকে গত এক বছর আমরা সঠিকভাবে সার গ্রহন করতে পারছিনা। কারন তিনি যশোর নওপাড়া থেকে বস্তা প্রতি ৩০-৪০ টাকা করে বেশী দামে বিক্রি করে নিম্নমানের সার কুষ্টিয়া গোডাউনে আনেন। ইতিপূর্বে দুই ট্রাক সার বাইপাস সড়ক থেকে আটক করে বাফার অফিসে নিয়ে আসেন একজন সার ডিলার। উক্ত সারটি সরাসরি যশোর নওপাড়া থেকে বিক্রি করে দিয়েছিল এই বাফার ইনচার্জ।

ডিলাররা আরও জানান, সম্প্রতি বাফার গোডাউনে বরাদ্দকৃত ৩০০০ মে;টন কাফফো ও ২৪০০ মে:টন: কাতারের ইউরিয়া সার কুষ্টিয়া গোডাউনে না এনে সিকোর ম্যানেজার নারায়ন এবং কুষ্টিয়ার বিএফএর সভাপতি জসীম উদ্দিন খাঁন ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল লতিফের যোগসাজসে গোডাউন ইনচার্জ তাহের বেশী দামে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়ে অতিরিক্ত অবৈধ উপার্জিত অর্থ তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। যা তারা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছেন।ইনচার্জ তাদেরকে বললেন, আপনারা কাতারের সার ৫০% আর বাকী ৫০% অন্য সার গ্রহন করেন। কাতার থেকে আরও ১২০০ মে:টন: সার আসছে তা পথিমধ্যে আছে পৌছালেই ওটা আপনারা পাবেন। মুলত গোডাউনে ৩০০০ মে:ট: কাফফো সার যে নেই সেটা তিনি অস্বীকার করে যাচ্ছেন।

বাফার অফিসে লেবার ঠিকাদার নিযুক্ত আছেন তিনি গাড়ি প্রতি ৩০০ টাকা আদায় করে তা বাফার ইনচার্জকে প্রদান করেন এছাড়াও লোবররা পায় ৩০০ টাকা এবং দালাল পায় ১০০ টাকা। উক্ত টাকা নেওয়ার কোন সরকারী বিধান নেই তবুও জোরপূর্বক এটি ডিলারদের কাছ থেকে আদায় করে থাকেন। শুধু তাই নয় পে-অর্ডার প্রতি নগদ ২০০ টাকা করে গ্রহন করে যাচ্ছেন বর্তমান বাফার ইনচার্জ। অন্যদিকে অফিসের নোটিশ বোর্ডে কোন প্রকার নোটিশ টাঙানো নেই।যশোর নওপাড়া থেকে অধিক লাভে কার্গো ধরেই অন্য ব্যক্তির কাছে ভাল ব্রান্ডের সার অধিক মুল্যে বিক্রি করার অভিযোগ তুলেছে সার ডিলাররা। তার দুর্নীতি এখানেই শেষ নয় তিনি গুদাম পরিস্কার, রক্ষনা বেক্ষন, বালি ভরাট, ত্রিপল ক্রয় বাবদ সকল সার ডিলার মালিকদের কাছ থেকে এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা আদায় করেছেন। উক্ত খরচগুলো করার কথা বিসিআইসির। উক্ত খরচগুলো তিনি ঠিকই বিসিআইসির কাছ থেকে আদায় করেছেন ভাউচারের মাধ্যমে আর এই অর্থ তিনি তার পকেটে ঢুকিয়েছেন।
ডিলাররা আরও অভিযোগ তুলে বলেন, ইতিপূর্বে ইনচাজ সাবধান করে দিয়েছিলেন এধরনের চাঁদাবাজী বন্দ করতে, কিছুদিন থেমে থাকার পর আবারো শুরু করেছে। তারা আরও বলেন যে সকল সার ব্যবসায়ী বস্তা প্রতি ৩০-৪০ টাকা করে বেশী প্রদান না করলে তাদেরকে ছেড়া, ফাঁটা, ওজনে কম, শক্ত পাটা বস্তা সার দিয়ে থাকেন। যারা ৩০-৪০ টাকা করে বেশী প্রদান করেন তাদেরকে ভাল সার প্রদান করেন।

বাফার অফিসে যখন ডিলারদের সাথে বাকবিতন্ডা চলছিল তখন কুষ্টিয়ার বিএফএর সভাপতি জসীম উদ্দিন খাঁন ও সাধারন সম্পাদক আব্দুল লতিফ কেহই ছিলেননা। সভাপতি অসুস্থতার কথা বলে না এসে মোবাইলে লাউড দিয়ে সকলকে শুনিয়ে দিলেন কাতারের সার ডিলাররা পাবে ৮০% বাকী ২০% সার পাবে অন্য দেশের সার। বাক বিতন্ডার প্রায় প্রায় ১ঘন্টা পর বাফার ইনচার্জ সম্পাদক আব্দুল লতিফকে মোবাইল ফোনে কল কল করে আসতে বললেন। কিন্তু তিনি আসলেন ঠিকই মুখে কোন কথা নেই। এসেই চুপচাপ বসে থাকলেন কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারলেন না।

এ ব্যাপারে সাধারন সম্পাদক লতিফের সাথে ঐ সময় কথা বলতে চাইলেও তিনি এই সকল দুর্নীতির কোন সদোত্তর দিতে পারলেন না। তিনি উত্তর উত্তর দিবেন কিভাবে তিনিও তো তাহেরের একজন, আব্দুল লতিফ সম্পর্কে গতকাল খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে গত এক বছরে অঢেল টাকার মালিক বনে গেছেন সেই সাথে ঢাকাতে একটি ফ্লাট বাড়ীও ক্রয় করেছেন। অন্যদিকে সভাপতি জসীম উদ্দিন খাঁন গত এক বছরে যা অবৈধ উপার্জন করেছেন তার কিছু অংশ দিয়ে কলেজ মোড়ে আমিন ফার্মেসীর পশ্চিমপার্শ্বে দ্বিতল ভবন ক্রয় করেছেন।
কুষ্টিয়ায় কর্মরত এই বাফার ইনচার্জ এক বছরের অধিক সময় ধরে এখানে চাকরী করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ সমস্ত সার ডিলারদের।

তথ্য মতে পাওয়া গেছে বাফার ইনচার্জ কুষ্টিয়া বাফার অফিস থেকে প্রতি মাসে নুন্যতম ১০ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেন যাচ্ছেন। তিনি জয়পুরহাট গ্রামের বাড়ীতে যান প্রাইভেট গাড়ীতে করে একজন ইনচার্জ প্রাইভেট কার নিয়ে বাড়ীতে যাওয়ার কারন একটাই তিনি অবৈধ উপার্জনের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে জমা করেন না সে কারনেই প্রাইভেট কারে করে বাড়ীতে গিয়ে নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত করছেন। ইতিপূর্বে জয়পুরহাটে ইনচার্জ পদে থাকা অবস্থায় এই সকল দূর্নীতির কারনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় যা এখনো চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তা সহ দুদকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন কুষ্টিয়ার সকল সার ডিলারা।

কে এম শাহীন রেজা
কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে