জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিজের নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে তাতে দান করেছেন। ৯০ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্ট নিজেও পাঁচ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে আছেন।

রোববার বিকালে এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতি। তিনি জানান, এই ট্রাস্টে এরশাদসহ ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন তার ছেলে এরিক এরশাদ, একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, চাচাতো ভাই মুকুল ও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ভাই জিএম কাদেরকে ট্রাস্টি বোর্ডে রাখা হয়নি।

জাতীয় পার্টির একাধিক সুত্র জানায়, বিকেলে বারিধারার বাসায় জাপা চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলামের ব্যবস্থাপনায় সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি তার গড়া ট্রাস্টের নামে দান করেন। যেসব সম্পত্তি ট্রাস্টের নামে দান করা হয়েছে তার আনুমানিক মূল্য ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে- বাড়িধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসা, গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট, বাংলামটরের দোকান, রংপুরের কোল্ড স্টরেজ, পল্লী নিবাস, রংপুরে জাতীয় পার্টির কার্যালয়, ১০ কোটি টাকার ব্যাংক ফিক্সড ডিপোজিট।

এদিকে জাতীয় পার্টিতে পদায়ন আর পদচ্যুতির নানা নাটকীয়তার মধ্যে এরশাদের বারিধারার বাসভবনে কয়েক দিন ধরেই আনাগোনা বেড়েছে তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের। তিনি ভারত প্রবাসী হলেও তাদের ছেলে এরিক এরশাদ থাকেন বাবার সঙ্গেই। এরশাদও বিভিন্ন সফরে অন্য নেতাদের সঙ্গে এরিককে নিয়ে যান। নিজের নাম গঠন করা ট্রাস্টে তিনি এরিখকে রেখেছেন। খালাত ভাই মুকুল, একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে ট্রাস্টের সদস্য করেছেন এরশাদ নিজের বিশ্বস্ত লোক হিসেবে।

শারীরিকভাবে বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ এরশাদ গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে একদিনও প্রচারে যাননি। নির্বাচনের আগে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পর নির্বাচনের দিন ভোট দিতেও নির্বাচনী এলাকা রংপুরে যাননি এরশাদ।গত ৬ জানুয়ারি আইনপ্রণেতা হিসেবে শপথ নেন এরশাদ, তবে তিনি সংসদে গিয়েছিলেন হুইল চেয়ারে চড়ে।

পিবিডি থেকে,
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে