বিশ্বখ্যাত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী আনিশা ফারুক। এ পদে প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জিতেছেন তিনি।
তিন দফায় স্টুডেন্ট ইউনিয়নের বার্ষিক এ নির্বাচন শেষে বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েস্টন লাইব্রেরিতে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অক্সফোর্ড স্টুডেন্টে’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্টুডেন্ট ইউনিয়নের নির্বাচনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ইভি ম্যানিং (স্বতন্ত্র প্রার্থী) ও ইলি মিলনে-ব্রাউনকে (অ্যাসপায়ার প্যানেল) হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন অক্সফোর্ড ইমপ্যাক্ট প্যানেলের প্রার্থী আনিশা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর ফারুক আহমেদের মেয়ে আনিশা বর্তমানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত কুইন’স কলেজে ইতিহাস বিষয়ে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লেবার ক্লাবের কো-চেয়ার এবং দ্য অক্সফোর্ড স্টুডেন্টের এডিটর-ইন-চিফ ছিলেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ আছে, যেমনটা আমাদের দেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে। এই ছাত্র সংসদের পদগুলো খুবই প্রেস্টিজিয়াস। কারণ, এখানে যারা নেতৃত্ব দেন তারা গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করেন। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন, ছাত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপার স্যাপার নিয়ে, অধিকার নিয়ে সবার সামনে ফ্রণ্টে গিয়ে কথা বলেন। যাহোক, সেই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এইবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। ২২ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে, সকল শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব যার, সেই প্রেসিডেন্ট পদে এবছর ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। আর কেউ নন, যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের কন্যা আনিশা ফারুক।
বাংলাদেশি হিসেবে তো বটেই আনিশা দক্ষিণ এশিয়ারই প্রথম প্রতিনিধি যিনি অক্সফোর্ড ছাত্র সংসদের শীর্ষ পদে নেতৃত্বে আসলেন! গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অক্সফোর্ডের ওয়েস্টন লাইব্রেরিতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তিন দফায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে ১৫২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আনিশা ফারুক। সর্বমোট ৪৭৯২ ভোটে জয়ী হন তিনি। প্রেসিডেন্ট পদের আরেক প্রার্থী এস্পায়ার প্যানেলের এলি মিলনে-ব্রাউন অবশ্য দ্বিতীয় দফায় বাদ পড়ে যান। তবে ফাইনাল রাউন্ডে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী আইভি ম্যানিংয়ের সাথে। এই প্রার্থী ভোট পান ১৪১৬ ভোট।

বাংলাদেশও আনিশার এই সাফল্যে গর্বিত। তবে আনিশা ফারুক এই পর্যায়ে আকাশ থেকে এসে পড়েননি। এর আগে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মুখপাত্র পত্রিকা ‘অক্সফোর্ডস্টুডেন্ট’ এর চিফ-এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লেবার ক্লাবের কো-চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই ক্লাবের পক্ষ থেকে বিতর্ক, সোশ্যাল ক্যাম্পেইন ইত্যাদি কাজকর্ম পরিচালনার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তিনি।
নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্স নিউজ














