অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর প্রবৃদ্ধির হাত ধরেই বাংলাদেশে বৈষম্য বাড়ছে। যা দুশ্চিন্তার হলেও অপ্রত্যাশিত নয়। দেশে ধনি-গরিব বৈষম্যের পর্যালোচনা করতে গিয়ে এমন বিশ্লেষণ করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে এ অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি চায় সরকারও। তাই বৈষম্য কমানোকে প্রাধান্য দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। কতগুলো ইট ভাঙ্গতে হবে, হিসেব নেই। শুধু জানেন, আড়াই ফুট উচ্চতার বস্তা ভরলে মিলবে ২০ টাকা। রাজধানীর পথে পথেই বৈভবের পাশে দারিদ্রের সহাবস্থান। আসলে চিত্রটা পুরো দেশেরই।
আন্তর্জাতিক দারিদ্র রেখা দৈনিক ১ ডলার ৯০ সেন্ট আয়ের হিসেবে বাংলাদেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা ২ কোটি ৪১ লাখ। বাংলাদেশ যেহেতু নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ, সেক্ষেত্রে দারিদ্র রেখার আয় ৩ ডলার ২০ সেন্ট। বিশ্বব্যাংক বলছে, এ হিসেবে দেশে অতিগরীব মানুষ ৮ কোটি ৬২ লাখ। তবে কৃষি থেকে শিল্পনির্ভরতার রুপান্তরে কিছু মানুষ পেছনে থাকবে, অর্থনৈতিক তত্ত্বে এটাই নাকি প্রত্যাশিত।
বিআইডিএস মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ বলেন, অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণেই বৈষম্য বেড়ে যাচ্ছে। আর এটা হওয়াই স্বাভাবিক। কোন দেশের অর্থনীতি একটা পর্যায়ে পৌঁছার পর সেটা আবার কমতে শুরু করে। আমরা এখনো বাড়ার দিকেই আছি। এখানে অবশ্যই সরকারের একটা পদক্ষেপ নেয়া উচিত যাতে করে, এই বৈষম্যের হার কমানো যায়।’

জাতীয় -আন্তর্জাতিক সব গবেষণাতেই ভীষণ ভাবে উঠে এসেছে দেশের অসমতার চিত্র। অতি ধনি মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধিতে বিশ্বে ১ম বাংলাদেশ। ধনি বৃদ্ধির হারে ৩য়। এমন অসমতা দূর করতে চায় সরকারও।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, ‘আমাদের এই বছরের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য থাকবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র কমানো। আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর উপরও আমরা জোর দিব। এছাড়া অনুন্নত অঞ্চলগুলোকে প্রধান্য দিয়ে প্রকল্প প্রণয়ন ও পরিচালনা করার জন্য আমরা উন্নয়ন বাজেট করারও পরিকল্পনা করছি।’

২০৩০ সালে অতিদারিদ্র্য হার ৩ শতাংশে আনতে চায় সরকার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে প্রায় ২০ কোটি। অর্থাৎ তখনও অতিগরিব থাকবে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ














