ভয়াবহ শিক্ষক সংকটে দেশের ৩৬ সরকারি মেডিকেল কলেজ। শতকরা ৭৭ ভাগ শিক্ষকের পদ খালি থাকায় দক্ষ, মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরির পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মানব সেবার ব্রত নিয়ে ডাক্তার হতে চাওয়া শিক্ষার্থীরাও বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার সুযোগ থেকে। এই অবস্থাকে বিপজ্জনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সংকট সমাধানে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বপ্নের নাম মেডিকেল শিক্ষা। বাবা-মা’র সে স্বপ্ন পূরণে কাঠখড় পুড়িয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর শিক্ষার্থীরা প্রথম ধাক্কা খায় শিক্ষক সংকটে। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে পরিপূর্ণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় তারা।

খুলনা মেডিকেলে ছয় ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৬১। সেখানে ১৯টি বিষয়ে কোনো অধ্যাপক নেই। নয়টি বিষয়ে মাত্র একজন করে শিক্ষক থাকলেও, চারটি বিষয়ে তা-ও নেই। ২৩ অধ্যাপক পদের বিপরীতে ৪ আর ৪৪ সহকারি অধ্যাপকের মধ্যে দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ৮ জন।

পাবনা মেডিকেল কলেজে ফিজিওলজি, এনাটমি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ চলছে মাত্র একজন লেকচারার দিয়ে। এছাড়া, কোন অধ্যাপক ছাড়াই চলছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ। পাঁচ শিক্ষাবর্ষে ২৩৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলে মাত্র ৭ জন প্রভাষক দিয়ে। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া এতো বেশি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমতি দেয়ায় সঙ্কট বেড়েছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শিগগিরই সংকট সমাধানের সুযোগও কম দেখছেন কর্মকর্তারা।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষক সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হবে। মৌলিক বিষয়ে চাকরির সুযোগ ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো এবং অবসরের পর আবারও শিক্ষকতার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে