জাতীয় নির্বাচনে বিপুল পরাজয়ের পর বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট বিদেশীদের কাছে নালিশ করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। শনিবার দুপুরে নিজ ফেসবুক পাতায় দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই অভিযোগ করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের বিদেশী প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ ও লবিং এর মাধ্যমে তারা প্রমান করতে চাইছে যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা পরিসংখ্যান মোতাবেক একেবারেই অসম্ভব।

আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারচুপি করে কখনোই এই পরিমান ভোট পাওয়া সম্ভব নয়।

জয় বলেন, বিএনপির অভিযোগ ভোটার সংখ্যা ছিলো অত্যাধিক। কিন্তু এই ভোট দেয়ার হার গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ৮৭ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড, সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে বলে এবার ভোট দেয়ার হার বেশি বলে উল্লেখ করেছেন স্ট্যাটাসে।

আওয়ামী লীগ ৭২ শতাংশ ভোট পেয়েছে বরে দাবি করেছেন জয়। এই বড় বিজয়ের পেছনের কারণ হিসেবে তিনি দেখছেন আওয়ামী লীগ সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দলীয় নির্বাচনী প্রচারণার শক্ত ভিত্তি।

তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ নিুআয় থেকে মধ্যম আয়ের হয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিন গুণ, দরিদ্রের হার অর্ধেক হয়েছে, প্রায় সবাই শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে এছাড়া স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের ফলে সুবিধা পাচ্ছে জনগণ। আরো লিখেছেন বিরোধী পক্ষ যখন নালিশে ব্যস্ত ছিলো আওয়ামী লীগ তখন প্রচারণা চালিয়েছে জনগণের কাছে দলের ভিশন পৌঁছাতে।

সুশীল সমাজ কেউ কেউ বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের সাথে তাল মিলিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় সুশীল সমাজের এমন মন্তব্যের বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নাই বলেও মনে করেন তিনি। এসব ঢালাও বক্তব্য বলেন জয়।

বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের ভোট কম পাবার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়ে জেলে, তারেক রহমানের পলাতক থাকায় ও দলের করুণ সাংগঠনিক অবস্থাকে দায়ী করেছেন। এছাড়া, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করাতেও তাদের জনপ্রিয়তা কমেছে। মনোনয়ন চিহ্নিত অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদেও দেয়া ও নির্বাচনের আগে ভোট থেকে সওে আসার ইঙ্গিত দেয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামালহোসেন বিজয়ী হতে পারবেন না বলে নির্বাচন করেননি বলেছেন জয়। কারচুপি হলে গণফোরাম দুটি আসন থেকে বিজয়ী হলো কি করে এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

শেখ হাসিনা দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাই বিরোধীপক্ষের শত অপবাদ, অপপ্রচার জনগণ বিশ্বাস করেনি বলেন তিনি। তরুণরা তাকেই বেছে নিয়েছে যে তাকে উন্নত জীবন দিতে পারবে বলেছেন স্ট্যাটাসে।

নিউজ ডেস্ক || বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে