বাংলাদেশে পুলিশের প্রতি অনেকের বিস্তর অভিযোগ। পুলিশ জনগণের বন্ধু হলেও সবসময় পুলিশের কাছ থেকে বন্ধুসুলভ আচরণ পাওয়া যায় না। পুলিশের প্রতি মানুষের মনোভাব নেতিবাচক কেন তা ভেবে দেখা দরকার। বাংলাদেশের পুলিশ নিয়ে যখন নানান ধরণের কথা, তখন এক বাংলাদেশিই পুলিশ অফিসার হিসেবে নিউইয়র্কের টক অব দ্যা টাউন বনে গেছেন প্রায়। একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সবাই এখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ অফিসারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কি ছিল সেই ভিডিওতে? সেটাই বলছি।

এই ঘটনাটি গত ২৩ ডিসেম্বরের। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ব্যস্ততম সাবওয়ে স্টেশন। এখানেই এক নারীকে উত্যক্ত করছে পাঁচজন বখাটে, তাদের বলা হয় হোমলেস গুন্ডা। সেই সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক পুলিশের এক অফিসার। তার নাম সৈয়দ আলী। তিনি জন্মসূত্রে একজন বাংলাদেশি। যদিও তিন বছর বয়সে তিনি বাবা মার সাথে আমেরিকায় পাড়ি জমান। যাহোক, সৈয়দ আলী খেয়াল করলেন, পাঁচজন নারীকে বেশ ঝামেলায় ফেলতে চাইছে। তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের মুখোমুখি হন। তাদের গিয়ে অনুরোধ করেন, তারা যেন মেয়েটিকে উত্যক্ত করা বন্ধ করে এবং এখান থেকে চলে যায়।

সৈয়দ আলীর জন্য ব্যাপারটি ঝুঁকিপূর্ণই ছিল খানিকটা। কারণ, সেই মুহুর্তে তিনি একা। গুন্ডারা পাঁচজন একত্রে। তাই, সৈয়দ আলীর কথায় যে তারা পাত্তা দেবে না এটাই স্বাভাবিক। সেটাই হলো। আর সাবওয়ের মতো জায়গায় এমনিতেও এরকম গুন্ডাদের মুখোমুখি হওয়া কঠিন ব্যাপার। এরা সংঘবদ্ধ থাকে বেশিরভাগ সময়। সৈয়দ আলী যখন তাদের বললেন, মেয়েটিকে ডিস্টার্ব না করে সাবওয়ে থেকে বেরিয়ে যেতে তারা সৈয়দ আলীর উপর চড়াও হলো। দুর্বৃত্তরা তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকলে তিনি বারবার তাদেরকে থামতে বলেন। কিন্তু নিষেধ না শুনে একজন তার ওপর হামলা করলে তিনি লাথি দিয়ে তাকে ফেলে দেন। লোকটা আবার উঠে তাকে ঘুষি মারতে থাকলে তিনি ব্যাটন চার্জ করেন। এ সময় দ্বিতীয় একজন তার ওপর হামলা চালালে তিনি প্রতিরোধ করেন।

সৈয়দ আলী একাই প্রতিরোধ করেন পাঁচজন গুন্ডাকে। ফলশ্রুতিতে এরা সাবওয়ে থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আর এই ঘটনা স্টেশনের কিছু যাত্রী মোবাইলে ধারণ করে ফেলে। তার মধ্যে কেউ একজন ভিডিওটি অনলাইনে প্রকাশ করে দিলে সবাই সৈয়দ আলীর সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়! সৈয়দ আলীকে নিয়ে এতটাই আলোড়ন হয় যে, গত ২৬ ডিসেম্বর তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন করে নিউইয়র্ক টাইমস। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি টেলিভিশন চ্যানেলেও দেখিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সব কটি পত্রিকা সৈয়দ আলীকে প্রশংসিত করে। নিউইয়র্ক সিটি মেয়রও সৈয়দ আলীর সাহসিকতার প্রশংসা করে টুইট করেন।

নিউইয়র্ক পুলিশের ‘হিরো’ উপাধিও পেয়েছেন সৈয়দ আলী! কর্তব্য পালনে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিলেও তিনি চাইলে হয়ত এড়িয়ে যেতে পারতেন পুরো ঘটনাটি। একা পাঁচজনের সাথে লড়াই না করে চুপচাপ থাকলে কেউ তাকে দোষারোপ করত না৷ কিন্তু, তিনি পুলিশি পেশার সম্মানে, বিবেকবোধের তাড়নায় এমন ঝুঁকি নিলেন। যদিও, এই ঘটনায় এত আলোড়ন পড়ে যাবে তা ভাবেননি একটুও। ভিডিওর ব্যাপারেও তার কোনো ধারণা ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন ভাইরাল হলো তখন এক সহকর্মী তাকে ফোন করে ভিডিওর কথাটি জানায়! একজন বাংলাদেশি সৈয়দ আলী নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গর্ব এখন। এই অর্জন আমাদের পুলিশ বিভাগের অনুপ্রেরণা হোক, সেবাই হোক তাদের মূল ব্রত।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে