বাবা ছিলেন জাতির পিতার অত্যন্ত বিশস্ত সহচর ৷ তিনি ছিলেন জাতির পিতার কন্যার আস্থার জায়গা ৷ নিজ দল এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে শুধু নয়, এদেশের সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয় ৷ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এদেশের সকল মানুষের কাছে একটি আস্থার নাম ৷

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের এই সন্তান ছাত্রজীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। টানা ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আদর্শবান এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন দুই মেয়াদে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে যার অবদান শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করবে দেশবাসী।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের এক উজ্জ্বল প্রতিকৃতি। আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন দলের ও দেশের দুর্দিনে ভরসা আর বিশ্বাসের পরীক্ষিত কান্ডারি। দলের প্রতি গভীর আনুগত্য ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি কর্মীদের কাছে হয়ে ওঠেন আস্থাভাজন ও শ্রদ্ধেয়। মৃদুভাষী এই মানুষটি পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সকল মহলে। আদর্শের ভিন্নতা থাকলেও অন্য দলের নেতাদের কাছেও ছিলেন শ্রদ্ধার।

সৈয়দ আশরাফের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে, ১৯৫২ সালে। তাঁর পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সৈয়দ আশরাফ।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ছিলেন, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। একইসাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেন স্বচ্ছ রাজনীতির এই ধারক।

১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর জেলখানায় তাঁর পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হলে, দেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে যান সৈয়দ আশরাফ। সেখানে বাঙ্গালী কমিউনিটি ভিত্তিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি রাজনীতির চর্চাও অব্যাহত রাখেন।

পরবর্তিতে ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে ৭ম সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন মেধাবী এই নেতা। এরপর টানা চারবার এমপি হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল গ্রেপ্তার হলে, দলের দুর্দিনে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ আশরাফ। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দলের সবশেষ সম্মেলনে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিমান প্রতিমন্ত্রী, এলজিআরডি মন্ত্রী ও সর্বশেষ জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশ হারালো একজন মেধাবী ও অতুলনীয় উচ্চতার নেতাকে।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে