রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে টানা ৯’মাস ধরে। মৌসুম গড়িয়ে দেশটিতে এসেছে শীতকাল। হিমাংকের নিচে থাকা তুষারে ছেয়ে গেছে কিয়েভ’সহ বহু অঞ্চল। বেশিরভাগ জায়গাতেই তাপমাত্রা হিমাংকের নিচে।

ইউক্রেনকে পরাস্ত করতে এই শীতকালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে পুতিন সরকার, যা মস্কোর বহু পুরোনো যুদ্ধকৌশল। ১৮১২’খ্রিস্টাব্দে এই শীত-কৌশলে পরাস্ত হয়ে মস্কো পর্যন্ত এসেও ফিরতে হয় নেপোলিয়নের সেনাদের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লেলিনগ্রাদ ও স্টালিনগ্রাদের যুদ্ধে একইভাবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে পিছু হটে হিটলার বাহিনী। হিম শীতল আবহাওয়ায় একই কৌশলে ইউক্রেনকে সবধরনের সরবরাহ ও সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার নীতি হাতে নিয়েছে পুতিন। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুতের অভাবে ইউক্রেন থেকে শরণার্থীর ঢল নামতে পারে আশপাশের দেশগুলোতে, যা সামাল দিতে একসময় ইউক্রেন থেকে সমর্থন সরিয়ে নিতে পারে ইউরোপিয়ান দেশগুলো। ইউক্রেনে চলতি শীতকালকে প্রাণঘাতী হিসেবে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির মতে, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর বিদ্যুতের অভাবে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হতে পারে বহু মানুষের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হ্যান্স ক্লুজ বলেন, এ বছর ইউক্রেনিয়ানদের জন্য শীতকাল মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে আনবে। তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের সংকট দেখা দিলে হাসপাতাল পরিচালনা অসম্ভব হয়ে যাবে। এ’ছাড়া করোনা টিকাদানের হার কম হওয়ায় এসময় দেশটিতে করোনা সংক্রমণও বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে